মামুন রাফী , স্টাফ রিপোর্টার ||
এক সময়ের দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা রাতারাতি রঙ বদলে এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গ সংগঠন 'জাতীয় যুব শক্তি'র আহ্বায়ক বনে গেছেন। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ১১নং নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দলবদল ও পরিচয় গোপনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় এবং নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মোঃ জুয়েল, যিনি বর্তমানে ফেসবুকে মেহেদী হাসান জুয়েল নামে পরিচিত। তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলালের ছেলে।অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোঃ জুয়েল হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রথম সারিতে থেকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে জোরালো বক্তব্য দিতেন। নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদিত হাতিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি ‘গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পান। এ ছাড়াও তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং ‘সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’ নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জুয়েল নিজের অতীত পরিচয় আড়াল করতে এবং নতুন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনি হঠাৎ করেই নিজের পরিচয় গোপন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাথে রাজনীতি শুরু করেন। নিজেকে বাঁচাতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছদ্মনাম ব্যবহার শুরু করেন। আগে তার ফেসবুক আইডির নাম ‘নুর মোহাম্মদ জুয়েল’ থাকলেও ৫ আগস্টের পর তা পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মেহেদী হাসান জুয়েল’।অতীত রাজনৈতিক খোলস পাল্টে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ, সদস্য সচিব সাইফুর ইসলাম রাকিব এবং মুখ্য সংগঠক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল স্বাক্ষরিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট নিঝুম দ্বীপ যুব শক্তির এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।রাজনীতিতে ভোল্ট পাল্টানো ছাড়াও এই জুয়েলের বিরুদ্ধে নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের সরকারি খালসহ একাধিক জায়গা অবৈধভাবে দখলের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কীভাবে পরিচয় গোপন করে রাতারাতি জাতীয় যুব শক্তির মতো একটি সংগঠনের শীর্ষ পদে আসীন হলেন, তা নিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান কর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের সুযোগসন্ধানী ও বিতর্কিত ব্যক্তির পুনর্বাসনের ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই কমিটি পুনর্মূল্যায়ন এবং জুয়েলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এই বিষয়ে জুয়েলের মতামত নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে অফলাইনে অনলাইনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তার তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহবায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ রেজা জানান- বিগত সরকারের আমলে কেউ রাজনীতির সাথে সংপৃক্ত থাকতে না চাইলেও সাবেক এমপির কাছে সবাই হাজিরা দেওয়া লাগতো আবার জোর করে পদ দিয়ে দেওয়া হতো। জুয়েল ছাত্রলীগের উপজেলা গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ছিলেন এটা সত্য। এখন নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের যুব শক্তির আহ্বায়ক এটাও সত্য।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত