তানজিদ শুভ্র ||
সকালে চোখ খুলেই স্মার্টফোনে স্ক্রল করা আমাদের অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ফোন চেক করলে তা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে এটি মনোযোগ ও মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে।সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. কুণাল সুদ এই অভ্যাসের পেছনের স্নায়বিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতিকর দিকগুলো সহজভাবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর মস্তিষ্ক যখন ধীরে ধীরে জাগ্রত অবস্থার সাথে মানিয়ে নেয়, তখন ফোনের নোটিফিকেশন বা সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের ওপর অতিরিক্ত তথ্যের চাপ ফেলে দেয়।তিনি মূলত কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন:মানসিক চাপ বাড়ে: সকালে আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই কর্টিসোল হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে, যা ঘুম ভাঙাতে সাহায্য করে। এর সাথে যদি আমরা ইমেইল, খবর বা সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেজ পড়া শুরু করি, তবে তা আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে আরও উত্তেজিত করে তোলে এবং মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।মনোযোগ নষ্ট হয়: ফোনের নোটিফিকেশনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে তা সহজেই আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে। এগুলো আমাদের ভেতরে এক ধরনের অকারণ তাগিদ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোনে পুরোপুরি সময় না দিলেও শুধু নোটিফিকেশন আসাই আমাদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।উদ্বেগ বাড়ে: রাতে ঘুমানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু মিস হয়ে গেল কি না, এমন একটা ভয় থেকে অনেকেই সকালে উঠেই ফোন চেক করেন। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও, মূলত এটি উদ্বেগের একটি ক্ষতিকর চক্র তৈরি করে, যেখানে ভয় থেকেই আমরা বারবার ফোন চেক করি।অতিরিক্ত তথ্যের চাপ: স্মার্টফোনে একসঙ্গে অনেক ধরনের তথ্য আসে। মেসেজ, রিমাইন্ডার, কাজের আপডেট বা খবরের এই বিশাল স্রোত আমাদের মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে দেয়। ফলে কোন কাজটি বেশি জরুরি তা বোঝার ক্ষমতা কমে আসে।সবশেষে ডা. সুদ জানান, দিনের শুরুতেই যদি আমরা নিজের ব্যক্তিগত কাজের চেয়ে বাইরের দুনিয়ার এই চাহিদাতে বেশি সাড়া দেই, তবে তা সারাদিনের ফোকাস ও কাজের ধরনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।(ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে)
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত