মামুন রাফী , স্টাফ রিপোর্টার ||
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দখল, চাঁদাবাজি ও সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এনসিপি নেতা ইমরানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এলাকায় ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে প্রভাব বিস্তার করছেন। অতীতে বুড়িরচর ইউনিয়নের দানার দোল ঘাটে সার ও ইলিশ মাছের নৌকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে আইনি জটিলতায় পড়ে এবং পরবর্তীতে বিদেশে অবস্থান করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি পুনরায় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন বলে এলাকাবাসীর দাবি।স্থানীয় একাধিক সূত্র আরও দাবি করে, দেশে ফেরার পর তিনি তার পূর্বের কিছু সহযোগীকে নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং চৌমুহনী বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, লিজ ও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।অভিযোগের মধ্যে আরও বলা হয়, একটি সরকারি খাদ্য গুদাম ইজারা বা লিজ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং গুদামের ভেতরের সম্পদ গাছ, পাথর ও লোহার সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। পাশাপাশি গুদাম এলাকায় অবৈধভাবে ব্যবসায়িক স্থাপনা তৈরি এবং জমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এ বিষয়ে হাতিয়া এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনের একাংশের নামও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও নোয়াখালী ৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি হান্নান মাসউদের এর ঘনিষ্ঠ বলয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি সম্পদ লুট, দখল বা অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় এলাকায় আইনের শাসন ও জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান উদ্দিনকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। তাই তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত