ডেস্ক নিউজ ||
দেশে প্রথমবারের মতো ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল বিদ্যুৎ উৎপাদন। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদনের রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশজুড়ে অসংখ্য গ্রাহককে।গতকাল বুধবার (২০ মে, ২০২৬ ) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উংপাদিত হয় দেশে। তবে মধ্যরাত আনুমানিক ১২টা নাগাদই দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ প্রায় ১৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করে ফেলে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।এর আগে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। গত বছরের ২৩ জুলাই ওই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যা বলছে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার রাত ৯টায় (সর্বোচ্চ উৎপাদনের সময়) দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। ওই সময় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। অবশ্য সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লোকসানের কারণে গ্রিডে সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট। সেই হিসাবে রেকর্ড উৎপাদনের সময়ও ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই উৎপাদনের বড় অংশই এসেছে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৮১ এবং গ্যাসভিত্তিক থেকে ৫ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে ৩ হাজার ৪২৬ মেগাওয়াট।এদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড হলেও লোডশেডিং ঠিকই করা লেগেছে। পিজিসিবির ঘণ্টাপ্রতি লোডশেডিংয়ের তথ্যে দেখা যায়, রাত ১০টায় লোডশেডিং ছিল ৪৪৫ মেগাওয়াট, ১১টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২৩ মেগাওয়াটে। আর রাত ১২টায় ১৬ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৫ হাজার ৩২৫ মেগাওয়াট। ফলে মধ্যরাতেই দেশে ১ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াটের বড় লোডশেডিং হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত