মোশারফ হোসেন , স্টাফ রিপোর্টার ||
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েশন তরুণদের কাছে জনপ্রিয় এক পেশা ও সৃজনশীলতার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। সেই অঙ্গনেরই পরিচিত একটি নাম মো: আশ্রাফুল ইসলাম হৃদয়। ব্যবসা, পড়াশোনা এবং অভিনয়—সবকিছু একসাথে সামলে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। টিম আবু তালেবের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইতোমধ্যে দর্শকদের কাছে পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি ও ভালোবাসা।
ফেনীর ভেতরের বাজারে ছোট্ট একটি ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি হৃদয় বর্তমানে ফেনী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে খুব অল্প বয়সেই। ২০১৫ সালে বাবাকে হারানোর পর বাবার দেওয়া ছোট্ট ফুটপাতের ব্যবসা ধরে রেখে পরিবার ও নিজের ভবিষ্যতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ফেনীতে হলেও তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে।
কনটেন্ট ক্রিয়েশনের প্রতি হৃদয়ের আগ্রহ জন্ম নেয় ২০১৯ সালে। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালীন এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি প্রথম এই জগতের সাথে পরিচিত হন। বিশেষ করে আবু তালেব মাসুদ ও তার সহযোদ্ধাদের অভিনয় এবং গল্পভিত্তিক কনটেন্ট তাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। তবে তার কনটেন্ট জগতের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের মার্চ মাসে, জাহেদুল হকের হাত ধরে।
শুরুর পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। পরিবার থেকে খুব বেশি সমর্থন পাননি তিনি। বন্ধুদের মধ্যেও অনেকে তাকে নিয়ে মজা করতেন। তবে সময়ের সাথে সেই চিত্র বদলেছে। এখন তার বন্ধুরাই গর্ব করে বলেন—তাদের এক বন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় সফলভাবে কাজ করছে।
২০২৪ সালে “টিম আবু তালেব” নামে গড়ে ওঠা ফানি কনটেন্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন হৃদয়। তার ভাষায়, “টিম আবু তালেব আমার জন্য একটা বিদ্যালয়ের মতো।” এখান থেকেই তিনি শিখেছেন অভিনয়, সৃজনশীলতা এবং সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে কৌতুক ও নাটকীয়তার মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরার কৌশল।
প্রথমদিকে পারিবারিক কলহভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করলেও বর্তমানে তারা ফানি ও শিক্ষামূলক কনটেন্টে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করার বিষয়টিকেই তিনি সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি মনে করেন।
হৃদয়ের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হলো তার একটি রাজনৈতিক আনকাট ফানি কনটেন্টের ব্যাপক ভাইরাল হওয়া। সেই ভিডিওটি প্রায় ৭৭ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। তবে ভাইরালের চেয়েও দর্শকদের ভালোবাসাকে বেশি মূল্য দেন তিনি। বিশেষ করে শিক্ষামূলক কনটেন্টের জন্য দর্শকদের প্রশংসা ও ছোট ছোট উপহার তাকে অনুপ্রাণিত করে।
কনটেন্ট ক্রিয়েশন তার জীবনে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই আনেনি, এনে দিয়েছে মানুষের সম্মান ও ভালোবাসাও। হৃদয়ের ভাষায়, “যারা আগে কথা বলতো না, তারাও এখন খুব সহজে আমাকে আলিঙ্গন করে নেয়।”
ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বড় স্বপ্ন না থাকলেও নিজের টিমকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতে চান তিনি। পাশাপাশি অনলাইনে নিজের অবস্থান ধরে রেখে একটি শক্ত ব্যবসায়িক ভিত্তি গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখেন।
নতুনদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা—“হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া মানে ব্যর্থতা নয়। ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভালো কিছু করাই আসল সফলতা।”
সংগ্রাম, স্বপ্ন আর পরিশ্রমের সমন্বয়ে এগিয়ে চলা আশ্রাফুল ইসলাম হৃদয়ের গল্প আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত