ডেস্ক নিউজ ||
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আইনজীবীর কালো গাউন পরে সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং রাজ্যে ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর শুরু হওয়া ভোট পরবর্তী সহিংসতার একটি মামলায় সওয়াল করতে তিনি আদালতে হাজির হন।তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নিজে লড়ছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিচারপতির কাছে জরুরি সুরক্ষা প্রার্থনা করেছেন।শুনানির শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আইনজীবী হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে এটিই তার প্রথম উপস্থিতি। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে সহিংসতার হাত থেকে শিশু, নারী এবং সংখ্যালঘুরাও রেহাই পাচ্ছে না। তিনি আদালতে ১০ জন নিহত ব্যক্তির একটি তালিকা জমা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যে ৬ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া তিনি একটি তফশিলি জাতিভুক্ত পরিবারের ৯২ বছর বয়সী বিধবার ওপর হামলা ও উচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীদেরও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কি ঘুমিয়ে আছে কি না। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়’।
মাছের বাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধ প্রতিরোধ না করে উল্টো এফআইআর নিতে বাধা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য তার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আদালতে হাজিরা প্রমাণ করে যে তিনি বিপদের সময় বাংলার মানুষকে ছেড়ে যান না। প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সাহস ও সংকল্পের সঙ্গে লড়াই করছেন।
অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যার মতো ঘটনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের নির্দেশনার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারাদেশ।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত