ওসমান গনি , চান্দিনা প্রতিনিধি ||
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়ভাঙা খাটুনি আর বুকভরা আশা নিয়ে চাষ করা সোনার ফসল এখন চোখের সামনে পচে নষ্ট হচ্ছে, যা দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ এখন থৈ থৈ করছে বৃষ্টির পানিতে, আর সেই অথৈ জলে ভাসছে কৃষকের সারা বছরের অন্ন।চলতি মৌসুমে চান্দিনার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাজার হাজার একর জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আশা করেছিলেন এবার ঘরের গোলা ভরে উঠবে সোনালী ধানে। অনেক জায়গায় ধান পাকতে শুরু করেছিল এবং কোনো কোনো এলাকায় কাটা মাত্র শুরু হয়েছিল। ঠিক এই মূহুর্তে প্রকৃতির অকাল তাণ্ডব কৃষকদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে আসা স্রোতে তলিয়ে গেছে শত শত হেক্টর জমির পাকা ও আধা-পাকা ধান। কৃষকরা আক্ষেপ করে বলছেন, অনেক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং ধারদেনা করে তারা চাষাবাদের টাকা জোগাড় করেছিলেন। ফলন দেখে মুখে হাসি ফুটলেও এখন সেই হাসি বিষাদে পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষককে দেখা গেছে পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই ধান বাড়িতে নেওয়া বা শুকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।ধানের পাশাপাশি সবজি চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। চান্দিনা এলাকাটি সবজি উৎপাদনের জন্য বেশ পরিচিত। টমেটো, করলা, ঝিঙা ও লতাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ফলন ভালো হয়েছিল এ বছর। কিন্তু গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতগুলো এখন পানির নিচে। বৃষ্টির জমা পানিতে সবজির গাছ পচে যাচ্ছে, ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনে অনেক কৃষক এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।কৃষকদের এই দুর্ভোগের সাথে যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যারাও পাওয়া যাচ্ছেন, তাদের মজুরি এতটাই বেশি যে সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেক কৃষকই এখন বাকরুদ্ধ। তারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন বা ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন, তার কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। চান্দিনার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন কৃষকদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। সরকারি সহযোগিতা বা বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কৃষকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত