মোঃ আক্তার হোসেন , উপজেলা প্রতিনিধি ||
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকার নদীতীরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদ।স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট অংশ ধসে গেছে। এছাড়া পাড়সংলগ্ন এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত গভীরতা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।তাদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলনকারী বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও নদীতে বালু উত্তোলন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তারা জানান।এলাকাবাসীর মতে, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আশেপাশের ছোট ছোট চর দ্রুত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ পুরো জনপদ হুমকির মুখে পড়বে।এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, ইতোমধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এদিকে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার আসামিরা হলেন—হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেন মিজির ছেলে আব্দুল কাদের (২২), পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার স্বরুপকাঠি এলাকার মো. নুরুল আমিনের ছেলে মো. আইয়ুব আলী (২০), নাজিরপুর থানার মধ্য কলারদোয়ানীয়া এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. আমান উল্যাহ (১৯), শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার ঢাকেরহাটি এলাকার মো. শহিদুল আকনের ছেলে মো. মোরশালিন (১৯), পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার কলারদোয়ানিয়া এলাকার মো. আবু হানিফের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (২৩), হাইমচর থানার উত্তর বগুলা গ্রামের ছানাউল্লাহ মিজির ছেলে দোলোয়ার মিজি (৪৪) এবং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের চরভাংগা গ্রামের কাদের গাজীর ছেলে মনির হোসেন জুয়েল (৩৫)।হাইমচর থানার ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে নজরে এনে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত