কে এম সালাহউদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর ||
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব ধানুয়া গ্রামে ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বোমা বিস্ফোরণে শহীদ হন আক্তার হোসেন। একই বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন তার বোন বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝরনা ও বাবা ফয়েজ বক্স মিজি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও নানা কারণে স্বীকৃতি মিলেনি এই শহীদ পরিবারের। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারটির সদস্যরা।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পূর্ব ধানুয়া গ্রামের শহীদ আক্তার হোসেন এর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি দাপ্তরিকভাবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদে লিখিত থাকলেও বাস্তবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। আক্তার হোসেন সহ শহীদ পরিবারগুলোকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ১৯৯৯ সালে তৎকালীন ইউএনও রূপন কান্তি শীল এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি রেজুলেশন করে জেলা প্রশাসনকে লিখিত দেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যে কয়জন শহিদ হয়েছেন সে তালিকায় ৭১ নম্বরে নাম রয়েছে শহিদ আক্তার হোসেন এর। যা উপজেলা প্রশাসনের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘আমরা তোমাদের ভুলবনা’ তে এই শহিদের নাম খোদাই করা আছে। আর এই স্মৃতিস্তম্ভটি প্রতিষ্ঠা করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার লে. কর্ণেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী। এটির শৈল্পিক কাজ করেন দেশবরেণ্য শিল্পী হাসেম খান।মুক্তিযুদ্ধে একজন শহিদ পরিবার সম্মান পায়নি এমন বিষয় জানতে পেরে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় দৈনিক সংবাদ ও চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইলশেপাড়, দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিন পত্রিকায় ‘৩৯ বছরেও স্বীকৃতি মিলেনি ফরিদগঞ্জের এক শহীদ পরিবারের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। শহিদ আক্তার হোসেন পরিবারকে ২০১১ সালে চাঁদপুরের ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা’ অনুষ্ঠানে পরিবারটিকে ‘শহিদ পরিবার’ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।শহিদ আক্তার হোসেন এর বিষয়ে চাঁদপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ উপজেলার বিভিন্ন জার্নালে তথ্য প্রকাশ হয়। এর মধ্যে বীর প্রতিক শাহজাহান কবিরের ‘চাঁদপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বই এর ২৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও ফরিদগঞ্জ ফাউন্ডেশন কর্তৃক ২০০০ ও ২০১৫ সালে ‘আমরা ফরিদগঞ্জবাসী’ ম্যাগাজিনে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা যারা’ উল্লেখিত তথ্যে শহিদ আক্তার হোসেন এর নাম রয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী কর্তৃক শহিদ পরিবার হিসেবে শহিদ আক্তার হোসেন এর পিতাকে ২হাজার টাকা সম্মানি প্রদান করা হয়।এই বিষয়ে শহিদ আক্তার হোসেন এর ছোট ভাই শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি এবং জিয়া পরিষদ চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, শহিদ আক্তার হোসেন আমার বড় ভাই। উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের তালিকায় তাঁর নাম সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এতদসত্ত্বেও অজ্ঞাত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা সহ বিভিন্ন কারণে এখন পর্যন্ত শহিদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। যা অত্যতন্ত দুঃখজনক ও বেদনা দায়ক।তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।শহিদ পরিবারদের আমন্ত্রণ জানানো প্রসঙ্গে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। উনারাই এসব পরিবারকে আমন্ত্রণ জানান।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত