ডেস্ক নিউজ ||
জ্বালানি খাতে অস্থিরতার মধ্যেই এবার সরকারি একটি ডিপোতে গোপনে মজুত করা তেল পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে (ডিপো) অভিযান চালিয়ে এই তেলের মজুত শনাক্ত করা হয়। ডিপোটিতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিষয়টি দ্যা ঢাকা নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ।সূত্র জানায়, তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য পেয়ে শনিবার রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, এনএসআই ও পুলিশ ডিপোটিতে অভিযান শুরু করে। এ সময় ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার (অপারেশন) আল আমিন খানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনায় আছেন বলে জানান। তার নির্দেশনায় ডিপোর অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন দৈনন্দিন রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় রেজিস্টারপত্র উপস্থাপন করেন। এ সময় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) প্রবীর হীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় মেজারিং টেপ ব্যবহার করে যমুনা অয়েলের ৩৩টি ট্যাংকের ডিজেল পরিমাপ করা হয়। পরিমাপ শেষে ২৮ মার্চ প্রেরিত স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুতের তুলনা করে গরমিল পাওয়া যায়।অভিযানে ১ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার। যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অর্থাৎ এটিতে ৯৩২ লিটার বেশি পাওয়া গেছে। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, অথচ স্টেটমেন্টে উল্লেখ ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার। এই ট্যাংকে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি পাওয়া যায়। আবার ডিপোর ১৪ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। এই ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম পাওয়া গেছে। তিন ট্যাংকে সব মিলিয়ে সর্বমোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল বেশি পাওয়া যায়।অভিযানের খবর পেয়ে ডিপো ম্যানেজার আল আমিন আগেভাগে ছুটির কথা বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল বিপণনের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গোপনে অতিরিক্ত তেল মজুত করেন। পরবর্তীতে যা কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।এ ঘটনায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে যমুনা অয়েল ডিপোতে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত তেল পাচারের উদ্দেশে সরিয়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছিল, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালিত হয়। তল্লাশির সময় ডিপোর তিনটি ট্যাংকে তেলের পরিমাণে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।আজ রোববার (২৯ মার্চ) যমুনা অয়েল কোম্পানি মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) আল আমিন খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে, ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে কুর্মিটোলা ডিপোতে যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ ওঠে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল দুদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে চুরির প্রমাণ পায়। পরে, চুরির মূল হোতা পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হককে বদলি করা হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত