মোঃ শাহিদুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক এই বার্তাটি পাঠ করছেন। বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে ইরান কোনো আপস করবে না। আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘আমি সকলকে আশ্বস্ত করছি, আমরা শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকব না। আমাদের এই প্রতিশোধ কেবল বিপ্লবের মহান নেতার শাহাদাতের সাথে সম্পর্কিত নয়; বরং শত্রুর হাতে শহীদ হওয়া জাতির প্রতিটি সদস্য আমাদের প্রতিশোধের তালিকার একটি স্বতন্ত্র বিষয়।’হরমুজ প্রণালী অবরোধের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা অবশ্যই ব্যবহার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া শত্রু যেখানে দুর্বল, এমন নতুন ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র খোলার বিষয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সক্রিয় করা হবে।রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা এই ফ্রন্টের দেশগুলোকে আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু মনে করি। ইয়েমেন, হিজবুল্লাহ এবং ইরাকি প্রতিরোধের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ফিলিস্তিন ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সহায়তায় অবিস্মরণীয়।তিনি বলেন, আমি কেবল আমার বাবাকেই হারাইনি, বরং আমার প্রিয় স্ত্রী, উৎসর্গীকৃত বোন ও তার ছোট সন্তান এবং আমার আরেক বোনের স্বামীকে হারিয়েছি। কিন্তু আল্লাহর প্রতিদান ও ধৈর্যের ওপর ভরসা রাখলে এই শোক সহ্য করা সহজ হয়।ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হত্যার প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শুধু নেতার শাহাদাত নয়, সাধারণ নাগরিকের প্রতিটি রক্তের হিসাব নেওয়া হবে। মিনাব-এর শাজারেহ তাইয়্যেবাহ স্কুলে শত্রুরা যে অপরাধ করেছে, তার জন্য বিশেষ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ চিকিৎসা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া কর্মকর্তাদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক কর্তব্য। আমরা শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করব। তারা যদি না দেয়, তবে আমরা তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করব।আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ১৫টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। কিন্তু শত্রুরা আমাদের ঘিরে ফেলার জন্য আপনার দেশের মাটিতে ঘাঁটি গেড়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় সেসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং আমরা বাধ্য হয়ে সেগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছি। আমরা আপনার শত্রু নই, তবে আপনার দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের উভয়ের জন্যই বিপদ ডেকে আনছে। আমি পরামর্শ দিচ্ছি, দ্রুত এই ঘাঁটিগুলো বন্ধ করুন।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত