মোঃ আক্তার হোসেন , উপজেলা প্রতিনিধি ||
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ভবনের অগ্রগতি ও চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র জানতে সরেজমিনে গিয়ে নানা অনিয়ম ও চরম ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে।হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত আসন ও বেড সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাইরে সিট পেতে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। ভেতরে দীর্ঘ রোগীর সারি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ চোখে পড়ে। রোগীদের অভিযোগ, মশা-মাছির উৎপাত ও নোংরা পরিবেশের মধ্যেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।একাধিক রোগী জানান, হাসপাতালের ওয়াশরুমের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে দুর্গন্ধে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।চিকিৎসক সংকটের বিষয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। রোগীরা বলেন, পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এক রোগী জানান, তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য।হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা যায়। তার অনুপস্থিতিতে অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাতে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। দায়িত্বশীলদের এমন আচরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সরেজমিনে অবস্থানকালে আরও অভিযোগ পাওয়া যায় এবং প্রতিবেদক নিজেও কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করেন। হাসপাতাল এলাকায় দালালচক্রের ব্যাপক সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে এবং প্রতিবেদক নিজেও তা লক্ষ্য করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, আশেপাশের কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ডিউটির সময় একজন চিকিৎসককে সংশ্লিষ্ট একটি ক্লিনিকে রোগী দেখতে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন ৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনেই সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ রোগীরা।শুধু হাসপাতাল ভবনই নয়, নতুন প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার জন্য নির্মিত কোয়ার্টারগুলোও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। উদ্বোধন ও নিয়মিত তদারকির অভাবে এসব ভবন এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে। এছাড়া অনৈতিক কার্যক্রমেরও প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনগুলো কার্যত ‘মাদকসেবীদের সেফ জোনে’ পরিণত হয়েছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনের কার্যক্রম চালু করা হলে তারা স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত