ডেস্ক নিউজ ||
ভোটের লড়াই শেষ, এখন দেশের উন্নয়নের সময়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর বঙ্গভবন ও গুলশানজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে।রাজনীতির অন্দরমহল থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য ৪১ সদস্যের এই তালিকায় দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি তরুণ ও প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও স্থান পেতে পারেন।তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন বিএনপির দীর্ঘ সময়ের নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের চিন্তাবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে দক্ষ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। আইনি লড়াইয়ে আরও থাকছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ।দীর্ঘ দেড় দশক রাজপথে লড়াই করা নেতাদের এবার বড় দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করতে পারেন তারেক রহমান। এই তালিকায় রয়েছেন সাহসী নেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতো হেভিওয়েট নেতারা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ফিরে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের সংকটের সময় পাশে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নাম রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তালিকায় আরও আছেন সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু। সবচেয়ে বড় চমক দেখা যেতে পারে জোটের শরিক এবং তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তিতে। গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী ও ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মতো আলোচিত নামগুলো এই তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে ইশরাক হোসেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আবু আশফাকের মতো নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা নতুন বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। শিক্ষা ও বিশেষজ্ঞ কোটায় আলোচনায় আছেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো নেতাদের রাখা হতে পারে, যা পাহাড় ও সমতলের সুষম উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নারীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল ও তাহসিনা রুশদীর লুনার নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। পেশাজীবী কোটায় আলোচনায় আছেন চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।এটি উল্লেখযোগ্য যে, এই ৪১ সদস্যের তালিকাটি রাজনৈতিক অন্দরমহলে এখন পর্যন্ত আলোচনা ও দলীয় সূত্রের গুঞ্জন হিসেবে রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তারেক রহমান এই তালিকার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, তাহলে এটি অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা এবং তারুণ্যের সাহসিকতার একটি অনন্য মিশ্রণ হবে। শেষ পর্যন্ত কারা বঙ্গভবনে শপথ নিচ্ছেন, তা জানার জন্য এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে নতুন বাংলাদেশের এই নতুন নেতাদের দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত