ওসমান গনি , চান্দিনা প্রতিনিধি ||
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের নির্বাচনী ময়দান এখন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম। এই আসনে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন মুখদের সরব উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী ডক্টর রেদওয়ান আহমেদের অভিজ্ঞতার পাল্লা বনাম তরুণ প্রার্থীদের নতুনের আবাহন, এই দুইয়ের লড়াইয়ে জমে উঠেছে চান্দিনার রাজনীতির মাঠ।বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর রেদওয়ান আহমেদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। তিনি যখন মন্ত্রী ও এমপি ছিলেন, তখন চান্দিনায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাকা রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করে যে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন, গণসংযোগে সেসব চিত্রই তিনি জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।অন্যদিকে, এই আসনে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন। বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। যদিও তিনি এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন, তবে তার রয়েছে শক্তিশালী পারিবারিক ঐতিহ্য। তার বাবা চান্দিনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান নেতা মরহুম আলহাজ্ব খোরশেদ আলমের ব্যক্তিগত ইমেজ আতিকুল আলমের জন্য বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এবং পরিবর্তনের সুর তুলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।নির্বাচনী লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই ধর্মীয় ধারার রাজনৈতিক দলগুলোও। ইসলামী ১০ দলের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সোলেমান খান ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে নতুন মুখ হলেও ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নির্দিষ্ট একটি ভোটার গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। একই সাথে বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি এহেতাশামুল হক হাতপাখা প্রতীক নিয়ে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনিও এবারই প্রথম এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং ধর্মীয় ও নৈতিক সংস্কারের কথা বলে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।এছাড়াও নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী সুনীল কুমার কর ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রচারণার মাঠে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তাকে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না; অনেকটা নিশ্চুপভাবেই তিনি নির্বাচনে অবস্থান করছেন। অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা নাকি নতুন নেতৃত্বের জোয়ার, চান্দিনার সাধারণ মানুষ কাকে বেছে নেবেন, তা দেখার জন্য এখন কেবল ভোটগ্রহণের অপেক্ষা।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত