ওসমান গনি , চান্দিনা প্রতিনিধি ||
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বরাবরই সবজি চাষের জন্য উর্বর জনপদ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার উপজেলার মেহার গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেনের পরিশ্রম আর নিষ্ঠা যেন এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মাত্র ৩০ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পাতাকপি চাষ করে তিনি এখন এলাকার সফল কৃষকদের আইকন হয়ে উঠেছেন। তার ক্ষেতজুড়ে এখন শুধু সতেজ সবুজ পাতাকফির সমারোহ, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় মাঠের বুকে বিছিয়ে রাখা হয়েছে এক বিশাল সবুজ গালিচা।বিল্লাল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে লাভজনক সবজি চাষের কথা চিন্তা করেন। সেই ভাবনা থেকেই মেহার গ্রামের বর্গা ৩০ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড জাতের পাতাকপি রোপণ করেন। চারা রোপণের পর থেকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে জমি তৈরি, সুষম সারের ব্যবহার এবং নিয়মিত নিড়ানি দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ফসলকে পোকামাকড়মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ এবং সময়মতো সেচ দেওয়ায় ফলনও হয়েছে আশাতীত। প্রতিটি কপির আকার ও ওজন দেখে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনই ভিড় করতে শুরু করেছেন তার জমিতে।খরচ ও লাভের হিসাব মেলাতে গিয়ে বিল্লাল বেশ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে বীজ, জমি প্রস্তুত, সার এবং শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে সব মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকার মতো। বর্তমানে বাজারে পাতাকপির যে চাহিদা এবং আকার অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তিনি আশা করছেন সব খরচ বাদ দিয়ে তার নীট মুনাফা থাকবে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। অল্প সময়ে এবং স্বল্প পুঁজিতে এই পরিমাণ লাভ ধান বা অন্য ফসলে কল্পনা করা কঠিন।বিল্লালের এই সাফল্য দেখে মেহার গ্রামের বেকার যুবকদের মধ্যেও কৃষির প্রতি এক নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার দেখাদেখি পাশের জমির কৃষকরাও এখন ঝুঁকছেন উচ্চমূল্যের সবজি চাষের দিকে। বিল্লাল হোসেনের এই নীরব বিপ্লব প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মাটির সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে ভাগ্য বদলে দেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। মেহার গ্রামের এই সবুজ মাঠ এখন কেবল সবজির ক্ষেত নয়, বরং বিল্লাল হোসেনের মতো প্রান্তিক কৃষকদের রঙিন স্বপ্নের এক সফল বাস্তবায়ন।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত