মোঃ আক্তার হোসেন , উপজেলা প্রতিনিধি ||
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র বইছে নির্বাচনী আমেজ। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর-৩ আসনের একটি নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের ভাবনা, প্রত্যাশা ও চাওয়ার কথা জানতে সরেজমিনে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক।চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং ১১ দলীয় জোট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা প্রত্যাশা, আগামী দিনে তারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান, সেটিই উঠে এসেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বক্তব্যে।স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,“হাইমচর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত যে প্রধান সড়কটি রয়েছে, সেটির অবস্থা খুবই খারাপ। কোথাও নিচে, কোথাও উপরে, চলাচলে চরম ভোগান্তি। সবার আগে এই সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।”গণভোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অব্যাশই হ্যাঁ যেহেতু হ্যাঁ দিলে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ হবে আর না হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে। অন্য একজন বলেন- হ্যাঁ ভোট হলো ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, যত ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। এলাকার ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন,“রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন করতে হবে, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে হবে, সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”তবে গণভোট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গণভোট কী? এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”একজন খণ্ডকালীন কলেজ শিক্ষক বলেন,“যে দল বা ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন, তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে, যান ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা। চাঁদাবাজির কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষাও জরুরি ইসলামি ভাবদারা পরিবার যাতে তৈরি হয়। ”গণভোট বিষয়ে তিনি বলেন,“গণভোটকে এক ধরনের ফিল্টার হিসেবে দেখা যেতে পারে। জনগণ সচেতন হলে দেশ সঠিক পথে এগোবে।”আগামী নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় আরেকজন বলেন,“আমরা চাই একটি সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গত ১৫–১৭ বছরে এমন পরিস্থিতি দেখেছি, দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যায়নি, এজেন্ট পাওয়া যায়নি,ভোটার খুজে পাই না কেন্দ্রে কুওা ঘুমাইছে। সে ধরনের নির্বাচন আর দেখতে চাই না।”নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে এ প্রশ্নে তিনি বলেন,“নির্বাচন আসছে, আমরা আশাবাদী। আগের তুলনায় এই নির্বাচন ভালো হবে, সঠিক ভাবে ভোট দিতে পারবো,ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবো এমনটাই আশা করছি- বাকিটা কতটুকু হবে জানি না।নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে এক ব্যক্তি বলেন,“প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে অনেক আশ্বাস দেন, পরর্বতীতে আশ্বস্ত তো দূরের কথা বিস্তস্ত কাছে পোছতে পারে না। আমরা চাই সঠিক একটা নির্বাচন হোক প্রার্থী সে যেন তার আশা প্রত্যাশা যে স্বীকৃতি গুলো দিয়েছে যেন বাস্তবায়ন করতে পারে,আমরা চাই যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা যেন বাস্তবে রূপ পায়।এক তরুণ ব্যবসায়ী বলেন,পূর্বে আমরা এ রকম কিছু দেখি না নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা খুব কাছাকাছি আসে মানুষের কাছে আসে আস্তস্ত করে, দিন শেষে কিছুই হয় না। তবে নতুন বাংলাদেশে অনেক কিছুই তো নতুন তবে আশা করতে পারি একজন জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে এক ভোটার বলেন,“জনপ্রতিনিধি হতে হবে জনবান্ধব। জনগণের নাগরিক সেবা যেন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয় এমন প্রতিনিধিই আমরা চাই।”গণভোট বিষয়ে আরেকজন বলেন,হ্যাঁ পক্ষে কি কি রয়েছে প্রচারনার খুবই অভাব,হ্যাঁ এবং না পক্ষে আমরা অনেক কিছুই জানি না, আমি শুনছি কয়েকটা মাধ্যম "হ্যাঁ" পক্ষে খুব ভালো প্রাচারনা চালাচ্ছে কিছু তথ্য ও তুলছে তবে "না" টা কি কেন না কেন হ্যাঁ এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না এ বিষয়ে প্রাচারনার বাড়ানো বলে উচিত বলে মনে করি। অনেক মানুষ এখনো জানেন না গণভোট কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার অনেক মানুষের মধ্যেই গণভোট সংক্রান্ত ধারণার ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁদপুর-৩ আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জনবান্ধব প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা। এখন দেখার বিষয় এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত