মোঃ শাহিদুল ইসলাম , স্টাফ রিপোর্টার ||
ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শান্তি চুক্তির তিন সপ্তাহ পর আবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ঢাকা - আইডিয়াল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী একই বাসে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে বাসের ভেতরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে, আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করতে আসলে ঢাকা কলেজের কাছে উত্তরা ব্যাংকের সামনে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সবাইকে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেয়।আইডিয়াল কলেজে শিক্ষার্থী বাধন মাহবুব বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ ছুটির পর সাইন্সল্যাব এরিয়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তখনই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। যা খুবই নেক্কারজনক। এধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে আমাদের সাথে। এই বছর ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে হওয়া কনসার্টে আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে তাদের সাথে কিছু একটা বিষয় নিয়ে মারামারি হয়। তারই পরিপেক্ষিতে, ডিসিয়ান মিমস এবং ডিসিয়ান ফিক্সের এডমিনদের উসকানিতে আজকের এই ঘটনাটি ঘটে। এই বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত কমিটি সদস্য ওসি মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, ঢাকা - আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা একসাথে একই বাসে করে তাদের নিজস্ব গন্তব্যে যাচ্ছিল। পরক্ষণেই, ঢাকা কলেজের একটি শিক্ষার্থীর সাথে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তখন আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে সক্ষম হই এবং সবাইকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে দেই। এখন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে গঠিত নয় সদস্যের কমিটির সহায়তায় বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য চেষ্টা চলছে।ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ.কে.এম. ইলিয়াস বলেন, এই বিষয় নিয়ে আমরা সবাই তৎপর আছি। মারামারি সাথে যারা সম্পৃক্ত আছে বিশেষ করে যে মার খেয়েছে তার প্রতি আমাদের সমবেদনা এবং তার সম্পূর্ণ চিকিৎসার খরচ আমাদের। আর বাকিদের কঠোর শাসনব্যবস্থা মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। আজকের এই ঘটনা হয়তো বা কনসার্টে ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে। তবে, সব পক্ষই যদি সংযত থাকে তাহলে এধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব। তিনি আরও বলেন, গঠিত শান্তি চুক্তির নিয়ম শৃঙ্খলা অনুযায়ী, আমাদের কলেজের কোনো শিক্ষার্থী যদি নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা তাকে সংযত হওয়ার জন্য কিছু সময় দিই। যদি এরপরও পরিবর্তন না আসে, তাহলে ওই শিক্ষার্থীর গার্জিয়ানকে ডাকা হয়। এবং যদি তারপরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন না দেখা যায়, তাহলে আমরা তাকে বহিষ্কার করি, যেমনটি গত কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন।নভেম্বরের ৯ তারিখে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে একটি মৌখিক 'শান্তি চুক্তি' হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা ফুল ও মিষ্টি দিয়ে একে অপরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রতিজ্ঞা করে যে তারা আর কখনো সংঘর্ষে জড়াবে না।
কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত